|

পঞ্চম উইকেটের পতন

 অনলাইন ডেস্ক |৯ মে ২০১৫, শনিবার:

খুলনা টেস্টের ঘুরে দাঁড়ানো স্বাগতিক বাংলাদেশকে প্রেরণা দিলেও তা মাঠে কাজে লাগছে না। বিশ্বমানের বোলার নিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিচ্ছে পাকিস্তান। তামিম, মাহমুদুল্লাহ, সাকিবের পর এবারে টাইগার দলপতিকে কোনো রান না নিতেই ফিরিয়ে দিল সফরকারীরা।

উইকেটে রয়েছেন টেস্ট ক্রিকেটের বিস্ময় বালক মুমিনুল হক। নবম অর্ধশতক হাঁকিয়ে সৌম্য সরকারকে নিয়ে এগুচ্ছেন মুমিনুল।

বাংলাদেশ চার উইকেট হারিয়ে সংগ্রহ করেছে ১২৮ রান। এখনও পাকিস্তানের থেকে ৪২২ রান পিছিয়ে স্বাগতিকরা।

আশা-নিরাশার দোলাচলে থেকে আর কঠিন চ্যালেঞ্জকে স্বাগত জানিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়ে যেতে দিন শুরু করে টাইগার বাহিনী। ৩২ রান করে অপরাজিত থেকে চতুর্থ দিন ব্যাটিংয়ে নামেন তামিম ইকবাল। আর তামিমকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন ১৫ রান করা মুমিনুল।

চতুর্থ দিন বাঁহাতি পেসার ইমরান খানের বলে উইকেটের পেছনে সরফরাজের গ্লাভসবন্দি হয়ে বিদায় নেন তামিম। আউট হওয়ার আগে তিনি ৬৭ বলে ৭টি চারে ৪২ রান করেন। এরপর দলীয় ৯৫ রানের মাথায় ফেরেন মাহমুদুল্লাহ। ইমরান খানের বলে ইউনিস খানের তালুবন্দি হওয়ার আগে মাহমুদুল্লাহ করেন ২ রান।

সাকিবের কাছে বারবার অলরাউন্ড ক্যাটাগরিতে বিশ্বসেরার মুকুট হারানো মোহাম্মদ হাফিজের বলেই আউট হলেন দেশসেরা এ অলরাউন্ডার। হাফিজের বলে ওয়াহাব রিয়াজের তালুবন্দি হয়ে সাকিব ১৩ রান করে বিদায় নেন। আর ইয়াসির শাহর বলে বোল্ড হয়ে কোনো রান না করেই মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন মুশফিক।

এর আগে তৃতীয় দিন রানের বোঝা মাথায় নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করে টাইগাররা। ইমরুল কায়েসের একমাত্র উইকেটটি হারিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

তৃতীয় দিন শেষে বাংলাদেশ ১৪ ওভারে তোলে ৬৩ রান। সফরকারী পাকিস্তানকে হারাতে স্বাগতিকরা পিছিয়ে ছিল ৪৮৭ রান, হাতে নয় উইকেটে (ইনজুরিতে শাহাদাত)।

তিন হাজারি ক্লাবে প্রবেশ করে দারুণ গতিতে এগিয়ে যান তামিম ইকবাল। ইনিংসের অষ্টম ওভারে ইমরান খানকে চার মেরে সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশারের পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে টেস্টে তিন হাজারি ক্লাবে প্রবেশ করেন তিনি।

৫৫০ রানের বিশাল টার্গেট তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসের ১২তম ওভারে ইয়াসির শাহর বলে বোল্ড হয়ে বিদায় নেন ইমরুল কায়েস। দলীয় ৪৮ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ১৬ রান করে আউট হন ইমরুল।

এর আগে বাংলাদেশকে ২০৩ গুটিয়ে দিয়েও খুলনা টেস্ট পাকিস্তানকে ভয় দেখায়। গত টেস্টে প্রায় দুইদিন ব্যাটিং করে ম্যাচ ড্র করেছিল স্বাগতিকরা। তাই বাংলাদেশকে ফলোঅনে না পাঠিয়ে নিজেরাই ব্যাটিংয়ে নেমে যায় সফরকারীরা। ৫৪৯ রান নিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তান। দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণার আগে ৬ উইকেট হারিয়ে সফরকারীদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৯৫ রান। ফলে, বাংলাদেশের জন্য টার্গেট দাঁড়ায় ৫৫০ রান।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৯ উইকেট হারিয়ে ২০৩ রান তোলে। টেস্ট ক্যারিয়ারের ১৯তম অর্ধশতককে চতুর্থ শতকে রূপ দিতে পারেন নি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। টাইগারদের অষ্টম উইকেট পড়ে গেলে হাত খুলে খেলা শুরু করেন সাকিব। মোহাম্মদ শহীদ আউট হয়ে গেলে আর শাহাদাত হোসেনের অনুপস্থিতিতে সাকিবকে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকতে হয়। ফলে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৩৫৪ রানে পিছিয়ে থাকে স্বাগতিকরা।

প্রথম ইনিংসে টস হেরে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান ৮ উইকেট হারিয়ে ৫৫৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করিয়ে ইনিংস ঘোষণা করে। প্রথম ইনিংসে সফরকারীদের হয়ে ইনিংস সর্বোচ্চ ২২৬ রান করেন আজহার আলি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪৮ রান আসে পাকিস্তানের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান ইউনিস খানের ব্যাট থেকে। আর আসাদ শফিক টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ শতক হাঁকিয়ে করেন ১০৭ রান।

প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের হয়ে নয়জন বোলার বল করলেও ইনিংস সর্বোচ্চ তিন উইকেট দখল করেন তাইজুল ইসলাম। এছাড়া দুটি করে উইকেট পান মোহাম্মদ শহীদ এবং শুভাগত হোম। আর দ্বিতীয় ইনিংসে মোহাম্মদ শহীদ নেন দুটি উইকেট।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ১২:০৭ অপরাহ্ণ | মে ০৯, ২০১৫