|

রাজ্যসভায় সীমান্ত চুক্তি সংক্রান্ত বিল পাস

অনলাইন ডেস্ক || ৬ মে ২০১৫, বুধবার,

দীর্ঘ ৪১ বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সীমান্ত স্থায়ীভাবে চিহ্নিত হতে চলেছে। সেই সঙ্গে মিটতে চলেছে দুই দেশের ১৬১টি ছিটমহলের বাসিন্দাদের অমানবিক জীবনের সমস্যাও। সকলকে খুশি করে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বুধবার বেলা সোয়া দুইটায় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তি কার্যকর করার জন্য ১১৯তম সংবিধান সংশোধনী বিলটি পেশ করেন। সভায় আলোচনার পর ধ্বনিভোটে বিলটি পাশ হয়। আলোচনাকালে অনেক সদস্য এদিনটিকে ঐতিহাসিক দিন বলেও উল্লেখ করেন। তবে সুষমা স্বরাজ বিলটি বেশ করার ক্ষেত্রে কেন বিলম্ব হয়েছে তা সভায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। কেন সরকার আগের কেবিনেট কমিটিতে আসামকে বাদ দিয়ে বিলটি আনার জন্য অনুমোদন দিয়েছিল তাও তিনি ব্যাখ্যা করেন। পরে অবশ্য সকলের মতামতের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ বিলটির খসড়া গত মঙ্গলবার কেবিনেট কমিটিতে অনুমোদিত হয় বলে তিনি জানান। এদিন রাজ্যসভায় বিলটি পাশ হওয়ার পর বৃহষ্পতিবার এটি নিয়ম অনুয়ায়ী লোকসভায় পাশ করানোর জন্য পেশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। সংসদে পাশ হওয়ার পর বিলটি ভারতের অন্তত ৫০ শতাংশ রাজ্যের অনুমোদনের পর প্রেসিডেন্টের অনুমতি সাপেক্ষে কার্যকর হবে। আর এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সীমান্ত পুরোপুরি চিহ্নিত হবে। কার্যকর হবে ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মধ্যে স্বাক্ষরিত সীমান্ত চুক্তিটি। এর মাধ্যমে  ছিটমহলের দীর্ঘকালীন অমানবিক সমস্যার সমাধান যেমন হবে তেমনি অপদখলীয় জমি নিয়ে নিয়মিত বিরোধেরও স্থায়ী পরিসমাপ্তি ঘটবে। বিলটি নিয়ে আলোচনা অনেক সদস্যই বাংলাদেশ সীমান্ত চুক্তির ১৯৭৪ সালে অনুমোদন করার পরও ভারত দীর্ঘসময় তা করতে ব্যর্থ হওয়ায় তীব্র সমালোচনা করেন। অনেকে ছিটমহলের ৫০ হাজার মানুষের অমানবিক জীবনের কথা উল্লেখ করেন। এদিনের আলোচনায় অংশ নেন কংগ্রেসের করণ সিং, মণিশঙ্কর আইয়ার, গুলাম নবী আজাদ, প্রদীপ ভট্টাচার্য, তৃণমূল কংগ্রেসের সুধাংশু শেখর রায়, সমাজবাদী পার্টির রামগোপাল যাদব, সংযুক্ত জনতা দলের শারদ যাদব, বিজেপির ডি পান্ডিয়া, বিএসপির সতীশ চন্দ্র মিশ্র, সিপিআইএমের ঋতব্রত ব্যানার্জি , সিপিআই-র ডি রাজা প্রমুখ

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:১১ অপরাহ্ণ | মে ০৬, ২০১৫