|

গৌরীপুরে বিএডিসির ভেজাল বীজ কিনে দুই শতাধিক চাষির প্রতারিত !

 

সাজ্জাতুল ইসলাম সাজ্জাত, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) থেকে ঃ
ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চলতি ইরি-বোর মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন হলেও বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের (বিএডিসির) ভেজাল ও নিম্নমানের ধানবীজ কিনে দু’শতাধিক প্রান্তিক চাষি প্রতারিত হয়েছেন। এই বীজধান রোপন করে ফলন বিপর্যয়ের কারণে আর্থিকভাকে ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন চাষিরা। দুঃচিনত্মায় আজ চাষিদের চোখে ঘুম নেই। তাদের ফসলের মাঠ দেখে শুধু চোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে পানি। চোখে তারা সর্ষেফুল দেখচ্ছেন। ঋনের জালে আবদ্ধ অনেক ড়্গতিগ্রস’ চাষি এখন নাওয়া-খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবার বোর মৌসুমে উপজেলায় ২০ হাজার ৯৬৫ হেক্টর জমিতে বোরধান আবাদ করা হয়েছে। তারমধ্যে ভেজাল ও নিম্নমানের মিশ্রণ বীজ রোপননের কারণে এ পর্যনত্ম ৪০ একর জমির ধানে ফলন বিপর্যয়ের তথ্য তারা মাঠ থেকে সংগ্রহ করেছেন। এদিকে মাঠ পর্যায়ের প্রানিত্ম চাষিদের তথ্যমতে জানা গেছে, উপজেলার মাওহা ইউনিয়নের বাঢা গ্রামের এখলাস উদ্দিনের এক একর, আব্দুল মতিনের ০.৫০ একর, ইলিয়াসের ০.৫০ একর, ধারাকান্দি গ্রামের আবুল কাসেম ২.৬০ একর, ফকর উদ্দিনের ০.৬০ একর, জুয়েল এক একর, আব্দুল জব্বার এক একর , চান মিয়ার ০.৩০ একর, মনহর মিয়ার ০.৫০ একর, জসিম উদ্দিনের ০.৮০ একর, শাহজাহান ০.৩০ একর, আরশেদ আলীর ০.৩০ একর, আজিজের ০.৬০ একর, মোসলেম উদ্দিনের ০.৫০ একর, ফললুর রহমানের ০.৫০ একর, জয়দুলের ০.৩০ একর, মজিবুরের ০.৫০ একর, নজরম্নল ইসলামের ১.৫০ একর, রাসেলের ০.৮০ একর, আজিম উদ্দিনের ১.৬০ একর, আজহারম্নলের ০.৯০ একর, আব্দুল কাদিরের ০.৮০ একর, হারম্নন অর রশিদের ০.৮০ একর, লাল মিয়ার ০.৮০ একর, আঃ বারেকের ০.৭০ একর, জাহেদ আলীর এক একর, মোঃ দুলাল মিয়অর ০.৪০ একর, কিলস্নাতাজপুরের চান মিয়ার ০.৩০ একর, কুমরীর আবুল কাসেমের ২.৬০ একর । বাঢ়া গ্রামের কৃষক মো: এখলাস উদ্দিন জানান, গৌরীপুর স্বপন বীজ ভান্ডার থেকে তিনি বিএডিসির বসত্মায় ভর্তি বীজ ক্রয় করে জমিতে রোপন করেছিলেন। এই বীজ ধানে মিশ্রণের কারণে জমিতে বিভিন্ন জাতের ধান জন্মেছে। তন্মেধ্যে কিছুধান পেকে গেছে আর কিছু ধানে এখন শীষ গজায়নি। এতে ধানের ফলন বিপর্যয় হয়েছে। এতে তারা আর্থিক ড়্গতির সম্মুখিন হয়েছেন। একই অভিযোগ করেন একই গ্রামের আব্দুল মতিন ও ইলিয়াস। ড়্গতিগ্রস’ এই জমির ধান কেটে গোছা বেঁেধ স’ানীয় কৃষি অফিসের বারান্দায় প্রতিনিয়ত চাষিদের ঘুরাঘুরি করতে দেখা যাচ্ছে। তারা সংশিস্নষ্ঠ কৃষি বিভাগের মাধ্যমে বিএডিসির নিকট এর ক্ষতি পুরণ দাবী করছেন। না হলে অনেক চাষিরা বিএডিসির বিরম্নদ্ধে মামলার হুমকি দিচ্ছেন।
বর্গাচাষী আব্দুল হামিদ এবার ১.১৫একর জমিতে বিএডিসির ব্রিধান ২৮ ধানের জাত রোপন করেন। এতে ব্যয় হয় প্রায় ১৫হাজার টাকা। অন্যদের চেয়ে বেশি ফসল ফলাতে দিনরাত কেটে যান। শুধুমাত্র ভেজাল বীজের কারণে তিনি আজ চরম ড়্গতির সম্ম,ুখিন হয়েছেন। কৃষক মোঃ বাচ্চু মিয়া জানান, তার বড় ছেলে মহসীন আলম এবার এইচএসসি পরীড়্গার্থী। কন্যা কণা আক্তার এসএসসি ও ছোট ছেলে হৃদয় ৯ম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পুরো পরিবারের ১২মাসের খাদ্য যোগাতে ১.২০ একর জমি আবাদ করেন। ব্রিধান ২৮ রোপন করেন। একই জমিতে ব্রিধান-২৯, ব্রিধান-২৮, গাজী, বগড়া (স’ানীয় জাত), গুটি ধান জন্ম নেয়। সনত্মানদের লেখাড়ার খরচ নিয়ে শংকিত কৃষক বাচ্চু মিয়া। তিনি জানান, এক জাতের ধান পেকে গেছে, একটি ধানের শীষ বের হচ্ছে। ধান কাটার সুযোগ নেই। এদিকে ড়্গতিগ্রস’ চাষিরা বিএডিসির বীজের বসত্মা নিয়ে এখন ডিলারদের খুজাখঁজি করছেন। কিন’ অবৈধ বীজ ব্যবসায়ীরা এখন লাপাত্তা।
স্বপন বীজ ভান্ডারের মালিক ডিলার মো: স্বপন মিয়া জানান, তিনি বিএডিসির অফিস থেকে বীজ এনে চাষির মাঝে বিক্রি করেছেন। এগুলো ভেজাল না নিম্নমানের তা ব্যাগ খুলে দেখার সুযোগ নেই। তিনি আরো জানান, স’ানীয় কৃষি বিভাগ বীজ বিক্রির সময় নিয়মিত তদারকি করেছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহজাহান সিরাজ ক্ষতিগ্রস’ এলাকাগুলো পরিদর্শন শেষে সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, যারা এই ভেজাল বীজ বিক্রি করেছেন প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আর ক্ষতিগ্রস্থ চাষিদের তালিকা তৈরী করে ভর্তুতির জন্য উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হচ্ছে।
বিএডিসির উপপরিচালক মোঃ হাসমত আলী জানান, তিনি ক্ষতিগ্রস’ এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছেন। তবে ভেজাল ও মিশ্রিত বীজগুলো বিএডিসির নয় উলেস্নখ করে তিনি বলেন, বিএডিসির বস্তায় যারা ভেজাল বীজ ভরে বিক্রি করেছেন তাদের বিরম্নদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। উলেস্নখ্য যে, গৌরীপুর উপজেলায় বিএডিসির তালিকাভুৃক্ত ২১ জন ডিলার রয়েছেন। তাদের অনেকের বিরম্নদ্ধে প্রতি বছরই এরকম অভিযোগ ওঠে। কিন’ রহস্যজনক কারণে বিএডিসি ও কৃষি বিভাগ নিশ্চিুপ থাকেন। #

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:৪৭ অপরাহ্ণ | মে ০৪, ২০১৫