|

বিদ্যানন্দে কদ্দুসের দাপট ভ্যান চালক মকবুলের ১৬কাঠা জমি বেদখলঃ গ্রাম্য সালিশী ব্যর্থ!

ফুলবাড়ীয়া ব্যুরো অফিস : উপজেলার ১০নং কালাদহ ইউনিয়নের বিদ্যানন্দ (ইয়াদ আলী মার্কেট সংলগ্ন) এক নিরীহ দিনমজুর ও ভ্যানচালকের প্রায় ১৬ কাঠা আবাদী জমি বেদখল দিয়েছে দাতা ও মুক্তিযোদ্ধা নামীয় আঃ কদ্দুছ।
জানা যায়, ৯/৪/১৯৯৭ ইং সনে বিদ্যানন্দ মৌজায় ১৭২নং হালদাগে পৌনে ১০শতাংশ জমি মোছা: ছালেহা খাতুন ও মো. আব্দুল কদ্দুছ বিক্রি করে মৃত জালাল উদ্দিনের পুত্র মকবুল হোসেনের নামে সাফ কাওলা মুলে রেজিস্ট্রি করে দেন। ২৮/১০/১৯৯৭ইং সনে ২৬৭নং হালদাগে একই মৌজায় পৌনে ১০শতাংশ জমি মো. আব্দুল কদ্দুছ বিক্রি করে মৃত জালাল উদ্দিনের পুত্র আব্দুল হকের নামে সাফ কাওলা মুলে রেজিস্ট্রি হয়। ৫/৮/১৯৯৮ইং সনে ১৭০ ও ৪৪৫ হালদাগে বিদ্যানন্দ মৌজায় পৌনে ৩০শতাংশ জমি মো. আব্দুল কদ্দুছ বিক্রি করে মৃত জালাল উদ্দিনের পুত্র মো. আব্দুল হক, মো. আব্দুস ছামাদ, মো. মকবুল হোসেনের নামে সাফ কাওলা মুলে রেজিস্ট্রি সম্পূন্ন হয়। ২১/১২/২০০৩ইং সনে ১৭০ হালদাগে একই মৌজায় পৌনে ১০শতাংশ জমি মো. আব্দুল কদ্দুছ বিক্রি করে মৃত জালাল উদ্দিনের পুত্র আব্দুস ছামাদ ও মকবুল হোসেন এবং মকবুল হোসেনের স্ত্রী রহিমা খাতুনের নামে সাফ কাওলা মুলে রেজিস্ট্রি করে দেন। ২৫/৩/২০০৪সনে ২৬৯ হালদাগে বিদ্যানন্দ মৌজায় পৌনে ১০শতাংশ জমি মো. আব্দুল কদ্দুছ বিক্রি করে মৃত জালাল উদ্দিনের পুত্র মকবুল হোসেনের নামে সাফ কাওলা মুলে রেজিস্ট্রি হয়। ১১/৫/২০০৩সনে ১৬৫,১৬৪,৩৪০ নং হালদাগে একই মৌজায় ২৬শতাংশ জমি মো. আব্দুল কদ্দুছ বিক্রি করে মো. মকবুল হোসেনের পুত্র মো. আতিকুল ইসলাম ও মো. জহিরম্নল ইসলামের নামে সাফ কাওলা মুলে রেজিস্ট্রি করে দেন।
এসকল জমি কদ্দুছের বাড়ীর আশে পাশে হওয়ায় সকল জমি বেদখল দিয়েছেন। এসব জমিতে আ. কদ্দুস সবজির চাষাবাদ করেছেন এবং কিছু খোরাকী (১বছরের জন্য) দিয়েছেন। লিখিত অভিযোগের প্রেড়্গিতে সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে আ. কদ্দুসের বক্তব্য নিতে গেলে তিনি জানান, এসব ভুয়া জাল দলিল। এগুলো জমি আমি বিক্রি করিনি। সাংবাদিকদের দেখে তিনি বলেন, বসেন যেহেতু আসছেন ভালই অইছে এমপি সাহেব আসতেছেন। কখন আসছেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সময়টা দেন নাই। তবে তিনি আসবেন।
প্রতিবেশি হাবিবুর রহমান (৬০) ও রুস্তুম আলী কাঠ বেপারী জানান, অনেক দিন ধরে মকবুল ও তার ভাইগণ এজমিগুলো আবাদ করছে প্রায় ১বছর যাবত কদ্দুছ মিয়া বেদখল দিছে।
চাচা সৈয়দ আলী (৮০) জানান, সে এরকম প্রতারণা করে এলাকাকে জ্বালাইয়া ফালছে। সে কিছুই মানে না, তাল গাছ তার। আমাদের পরিবার আওয়ামীলীগ পরিবার কিন’ ওরা পার্টী বেইচ্ছা (নাম ভাঙ্গিয়ে) টাকা পয়সা খায় আমরা খাই না।
চাচা আবদুল (৭৫) বলেন, আমি সংগ্রামের পরে ফুলবাড়ীয়ায় লাহেড়ী পাড়ায় আইসা বাড়ী বানাইছি। আমার পৈতৃক সম্পত্তি আমার নামে রেকর্ডের কথা বলে তার বাপের নামে এবং তাদের নামে রেকর্ড কইরা নিছে। আমি দিন আনি দিন খাই, আমার কাছ খেকে ১৭০০ টাকা নিছে কিন’ কাজ করে নাই। এহন পোলাপানে আমারে ভাত দেয় না, কয় তোমার ভাইজতা (ভাতিজা) গড়ে জমি দিছ, হেনু (সেখানে) যাও। সংগ্রামের সময় কদ্দুসের বয়স ছিল ৬/৭বছর। তার বাপে জিলাপি ভাজার পরে বাজারে চলে গেলে সে ঐ চুলায় গিয়ে পড়ে গিয়ে তার হাতের আঙ্গুল পুড়ে যায়।
সংরড়্গিত মহিলা সদস্যের স্বামী নাছির উদ্দিন জানান, এব্যাপারে একাধিকবার সালিশ দরবার ডাকা হলেও আ. কদ্দুস আর আসে না। গত শুক্রবার (২৫এপ্রিল) নোটিশের মাধ্যমে পূনরায় চৌকিদারের মাধ্যমে নোটিশ দেয়া হলেও তিনি সেটিতে স্বাড়্গর করেন নাই। উল্টো শনিবারের দিন (২৬এপ্রিল) আমাকে হত্যা করার জন্য থ্রেড (হুমকি) দেয়। আমার বাবা শামছ উদ্দিন মাস্টারের কাছ থেকে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে দিবে বলে টাকা নিছে।
২নং ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার সেকান্দর আলী জানান, বিএনপি’র সময় আ. কদ্দুস গ্রাম সরকার ছিল। গরিব মানুষ এরা কষ্ট কইরা জমিটুকু কিনছে এইহানে তার নজর পড়ল? এটা অত্যনত্ম দুঃখজনক। স’ানীয় প্রবীন ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব মোহাম্মদ আলী মাস্টার জানান, মকবুল জমি কিনছে বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি এবং স্বাধীনতা যুদ্ধে কদ্দুছের বড় ভাই রুস্তুম যুদ্ধে শহীদ হয়েছে এটা আমার জানা আছে। কালাদহ ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ১নং ওয়ার্ড মেম্বার শাহাবুদ্দিন জানান, প্রায় ১বছর আগে জমি সংক্রানত্ম বিরোধটি মিমাংসা করার জন্য নোটিশ আকারে দিয়েছিলাম তিনি (আ. কদ্দুছ) উপসি’ত হন নাই। পরবর্তীতে সম্প্রতি শুক্রবার চৌকিদারের মাধ্যমে সভার নোটিশ প্রেরণ করা হলেও তিনি সেই নোটিশে স্বাক্ষর করেন নাই। আমি বার বার চেষ্টা করেছি কিন’ সমঝোতা করতে পারি নাই।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মো. আবু বকর সিদ্দিক বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ ঘটনাটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উৎঘাটন হোক

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:৩১ অপরাহ্ণ | মে ০৩, ২০১৫