|

ঈশ্বরগঞ্জে হাইব্রিড ‘নাফকো-১০৮’ জাতের ধানের বাম্পার ফলন

 

ফারুক ইফতেখার সুমন, ঈশ্বরগঞ্জঃ
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে হাইব্রিড ‘নাফকো-১০৮’ জাতের বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবছর উপজেলার প্রায় দুইশত একর জমিতে ওই জাতের ধান আবাদ করা হয়। ‘নাফকো-১০৮’ জাতের বোরো ধানের বাম্পার ফলনে কৃষকের মুখে ফুটে ওঠেছে হাসির ঝিলিক।
জানা যায়, গণচীন থেকে আমদানীকৃত হাইব্রিড ‘নাফকো-১০৮’ জাতের প্যাকেট বীজ আমদানী করে সেমকো কর্পোরেশন লিমিটেড নামক একটি প্রতিষ্ঠান। ওই ধান চাষ করে প্রতি ১০ শতাংশে উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১০ থেকে ১১ মণ ধান। উপজেলায় সোহাগী ইউনিয়নের ভালুকবেড় গ্রামে, সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর, আঠারবাড়ি ইউনিয়নের ফতেনগর, উচাখিলা ইউনিয়নের মরিচারচর এলাকা সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ ধানের ব্যাপক আবাদ হয়েছে।
আঠারবাড়ি রায়ের বাজারের বীজ বিক্রেতা মিজান ট্রেডার্স এর সত্যাধিকারী মতিউর রহমান ও সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর বাজারের বীজ বিক্রেতা মিজানুর রহমান জানান, এ বছর তারা প্রায় এক টন ‘নাফকো-১০৮’ জাতের বীজ ধান বিক্রি করেছেন। উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষকেরা তাদের কাছ থেকে ওই জাতের ধান সংগ্রহ করে চাষাবাদ করেছেন।
মহেশপুর গ্রামের কৃষক লিটন মিয়া জানান, ‘নাফকো-১০৮’ জাতের ধান চাষ করে ব্যাপক লাভবান হয়েছেন। অন্যান্য বছরের তুলনায় ৭৫ শতক জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষে এ বছর তিনি অধিক ফলনও পেয়েছেন। তবে বাজার মূল্য কম থাকায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেছেন।
চাপিলাকান্দা গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, এ বছর ৫০ শতক জমিতে ‘নাফকো-১০৮’ জাতের ধান চাষ করে প্রায় ৫৪মণ ধান পেয়েছেন। যা দেশীয় জাতের ধানের উৎপাদনের চেয়েও দ্বিগুণ। তবে বাজার মূল্য ভাল পাওয়া গেলে বাণিজ্যিক ভাবে এ ধান চাষ করে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন বলে জানান তিনি ।
সেমকো কর্পোরেশন লিমিটেড এর রিজিওনাল মার্কেটিং ম্যানেজার মোঃ মনিরুল আলম জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী গণচীন থেকে আমদানীকৃত ‘নাফকো-১০৮’ জাতের ধান বোরো মৌসুমে চাষাবাদের সম্পূর্ণ উপযোগী। দেশীয় অন্যান্য উপসি জাতের ধান উৎপাদন করতে যে পরিমান খরচ হয়, তার সমপরিমান খরচ করেই ‘নাফকো-১০৮’ জাতের ধান চাষ করে দ্বিগুণ উৎপাদন পাওয়া সম্ভব। ##

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:৩৬ অপরাহ্ণ | মে ০৩, ২০১৫