|

কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা, দেবর গ্রেফতার

সিম্মী আহাম্মেদ, কিশোরগঞ্জঃ  কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে পারিবারিক কলহের জের ধরে শ্বশুরবাড়ির লোকজন এক অনত্মঃসত্ত্বা গৃহবধূকে পুড়িয়ে মারার চেষ্ট করেছে। এতে পাপিয়া আক্তার (২৮) নামে ওই গৃহবধূর শরীরের ৮০ ভাগেরও বেশি অংশ পুড়ে গেছে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ণ ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় দেবর মাশিকুল হক (২২) কে এলাকাবাসী আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে। এছাড়া ঘটনার পর থেকে স্বামী আশিকুল হক, শ্বশুর আনোয়ারম্নল হক খোকন ও শাশুড়ি পারম্নল আক্তার পলাতক রয়েছে। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের উলুখলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও সংশিস্নষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রম্নয়ারি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া গ্রামের কৃষক নজির মিয়ার কন্যা পাপিয়া আক্তারের সাথে করিমগঞ্জ উপজেলার নোয়াবাদ ইউনিয়নের উলুখলা গ্রামের আনোয়ারম্নল হক খোকনের পুত্র আশিকুল হকের বিয়ে হয়। এর আগে মোবাইল ফোনে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রেমের বিয়ে হওয়ায় শ্বশুরবাড়ির লোকজন পাপিয়াকে সহ্য করতে পারতো না। তাদের এই দাম্পত্য কলহের বিষয়ে এলাকায় একাধিকবার সালিস-দরবার হয়েছে। গতকাল শনিবারও এসব বিষয় নিয়ে এলাকায় সালিস হওয়ার কথা ছিল।
অগ্নিদগ্ধ পাপিয়া আক্তার কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালের জরম্নরি বিভাগে প্রাথমিক চিকিৎসারত অবস’ায় জানান, দু’জনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়ে বিয়ে হওয়ায় স্বামীর বাড়ির লোকজন এ বিয়ে সহজভাবে মেনে নেয়নি। এক পর্যায়ে স্বামীও তাদের পড়্গ নিয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতো। গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঘরের দরজা লাগিয়ে দেবর মাশিকুল হক কাপড় দিয়ে পাপিয়ার মুখ ও হাত বেঁধে ফেলে। শ্বশুর আনোয়ারম্নল হক খোকনকে সাথে নিয়ে শাশুড়ি পারম্নল আক্তার তখন তার(পাপিয়ার) শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়।
পাপিয়ার খালাতো ভাই শহীদুল ইসলাম জানান, সালিস-দরবারের আয়োজন করায় ড়্গুব্ধ হয় পাপিয়ার শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তবে পাপিয়ার স্বামী আশিকুল ওইসময় উপসি’ত না থাকলেও এ ঘটনায় তার ইন্ধন রয়েছে। পাপিয়া চার মাসের অনত্মঃসত্ত্বা ছিল বলে জানা গেছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. পারভেজ আহমেদ জানান, ওই নারীর মুখের কিছু অংশ, বুক, পিঠ, কোমর ও দুই পা-সহ শরীরের ৮০ ভাগেরও বেশি অংশ পুড়ে গেছে। তার অবস’া আশঙ্কাজনক। রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকার বার্ণ ইউনিটে রেফার্ড করা হয়েছে।
করিমগঞ্জ থানার ওসি মো. বজলুর রহমান জানান, ঘটনার পর স্বামী, শ্বশুর, শাশুড়ি পালিয়ে গেছে। দেবর মাশিকুল হককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলার প্রস’তি চলছে। ওসি জানান, প্রাথমিক তদনেত্ম ঘটনায় স্বামী আশিকের ইন্ধনের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনায় জড়িতদের ধরতে পুলিশ বিভিন্ন স’ান অভিযান চালাচ্ছে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৯:২৩ অপরাহ্ণ | মে ০২, ২০১৫