|

ব্যাটসম্যানরাই বাঁচাতে পারবে খুলনা টেস্ট

পাকিস্তানের বিপক্ষে খুলনায় প্রথম টেস্টে বিপদেই আছে বাংলাদেশ দল। টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে খুলনার উইকেটকে ব্যাটসম্যানদের শত্রু বানিয়ে ফেলেন। দলের সেরা ব্যাটসম্যান মুমিনুল হকতো বলেই বসলেন, ‘এই উইকেটে তিন’শ রানই পাকিস্তানের বিপক্ষে যথেষ্ট। কিন্তু টেস্টের তৃতীয় দিন যেতেই তার সেই বক্তব্যকে পুরোপুরি ভুল প্রমাণ করেন পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানরা। এই উইকেটে ডাবল সেঞ্চুরি করা পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান মোহাম্মদ হাফিজ অবশ্য ভিন্ন কথা শোনান গতকাল। তিনি বলেন, বরং প্রথম দিনের উইকেটই ব্যাটসম্যানদের জন্য সহজ ছিল তৃতীয় দিনের তুলনায়। এরই মধ্যে মুশফিক বাহিনীর করা ৩৩২ রান টপকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ৫৩৭ রান করে ২০৫ রানের লিড নিয়েছেন পাকিস্তান। আজ চতুর্থ দিন সকালে সেই লিড করে আরও বড় করারও পরিকল্পনাতে আছেন মিসবাহ-উল হকের দল। কিন্তু উইকেট যত কঠিনই হোক না কেন বাংলাদেশ দলের অলরাউন্ডার শুভাগত হোম বিশ্বাস করেন এখনও এই টেস্ট বাঁচানো সম্ভব। আর সেটি করতে পারবে দলের ব্যাটসম্যানরা। গতকাল দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ ম্যাচ বাঁচানো অবশ্যই সম্ভব। আমাদের ব্যাটিংটা ভাল। জানি না পাকিস্তান কতক্ষণ ব্যাটিং করবে। যদি ভাল ব্যাটিং করতে পারি, অবশ্যই সম্ভব।’ তবে পাকিস্তানের পক্ষে ডাবল সেঞ্চুরিয়ান হাফিজের উইকেট নিয়ে করা মন্তব্যে সঠিক বলে নিয়ে নিজের ব্যাখ্যা তুলে ধরেন বলেন, ‘প্রথম দিনে ব্যাটিং করা কঠিনই ছিল। এখন মনে হচ্ছে না এতটা কঠিন। জানি না কাল উইকেট কি আচরণ করবে। আশা করছি, ভালই হবে।’
তবে তার আগে পাকিস্তান দলকে আজ চতুর্থ দিন সকালে কম রানেই আটকাতে চায় বাংলাদেশ। দলের এমন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘যতটা পারা যায়, পাকিস্তানকে কম রানে আটকাতে। এখন আমরা কেউ  হার-জিত নিয়ে চিন্তা করছি না। যত দ্রুত সম্ভব, পাকিস্তানকে অলআউট করতে হবে। আর ব্যাটিংয়ে চেষ্টা করবো আরও ভাল করতে হবে।’ দলে আটজন ব্যাটসম্যান নিয়ে খেলা এখন প্রশ্নের মুখোমুখি। পাকিস্তানের মত এতো শক্তিশালী ব্যাটিং বিপক্ষে কেন নেই আরও একজন বাড়তি স্পেসাল বোলার। কেন রাখা হলো না লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনকে? এমন প্রশ্ন ক্রিকেট বোদ্ধা থেকে শুরু করে সবার। সেই প্রশ্ন থেকে বাঁচতে পারলো না শুভাগতও। তবে পাশ কাটিয়ে সব দায়টা চাপালেন টিম ম্যানেজম্যান্টের উপরই। তিনি বলেন, ‘আটজন নাকি ১০ জন ব্যাটসম্যান খেলবে, এটা টিম ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। টিম ম্যানেজমেন্ট যা ভাল মনে করবে, সেটাই করবে। এটা নিয়ে আমি কি বলবো?’ এমনকি শুভাগত হোম পাকিস্তানের বিপক্ষে দুটি উইকেট পেলেও তাকে কেন টেস্ট দলে নেয়া হলো? সেই ব্যাটিং শক্তি বাড়াতে তাকে নেয়া হয়েছিল সেটি পূরণ করতে সে কতটা সক্ষম হয়েছে? শুধু তা নয় ব্যাটিং ছেড়ে হঠাৎ বোলার হয়ে ওঠা নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। এ বিষয়ে শুভাগত বলেন, ‘টেস্ট খেলাটা আমার কাছে সবচেয়ে বড় সুযোগ। যেখানে সুযোগ আছে, বোলিং-ব্যাটিংয়ে তা কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। এখন দলে বোলার হিসেবে আছি। আমি কিভাবে খেলবো সেটা দলের ওপর নির্ভর করে। আগে ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছি। বোলিংও করি। দলে যেভাবে খেলতে বলা হয়, সেভাবেই খেলি।’
এছাড়াও দলের সিনিয়র বোলার সাকিব আল হাসানের ব্যর্থতা প্রসঙ্গও বাদ যায়নি। সাকিব উইকেট পেলে দল আরও উপকৃত হতো বলেই মনে করেন তিনি।  সাকিবকে নিয়ে শুভাগত বলেন, ‘সাকিব চেষ্টা করেছে, সবাই চেষ্টা করেছে ভাল বল করতে। আমার ভূমিকা বোলার হিসেবে। চেষ্টা করেছি আর আমি সৌভাগ্যক্রমে উইকেট পেয়েছি। সাকিব উইকেট আরও বের করতে পারলে ভাল হতো।’

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৭:০৯ পূর্বাহ্ণ | মে ০১, ২০১৫