|

পরিবহণ ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবীতে হালুয়াঘাটে আমদানি ও রপ্তানীকারক গ্রুপের সংবাদ সম্মেলন

হালুয়াঘাট থেকে আনছারুল হক রাসেল: ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটে জেলা মটর মালিক ও পরিবহন শ্রমিকদের অনির্দিষ্টকাল ধর্মঘট প্রত্যাহারের দাবিতে আমদানী রপ্তানীকারক গ্রুপ সংবাদ সম্মেলন করেছে । বুধবার দুপুরে ইমেক্স কমিউনিটি সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনকালে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কড়ইতলী কোল এন্ড কোক ইম্পোটার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি ও ১নং ভুবনকুড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম সুরুজ মিয়া। তিনি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া কর্মীদের জানান, গত ৪ মাস পূর্বে শ্রমিক নেতা জাফর আলী খান বালি মিশ্রিত ভেজাল কয়লা বিক্রয় করার সময় গোবরাকুড়া আমদানী রপ্তানীকারক গ্রুপ কর্তৃক বাধাপ্রদান করে এবং এ বিষয় নিয়ে আমদানী রপ্তাকারীক গ্রুপের মহাসচিব আলহাজ্ব আলী আজগর ও জাফর আলী খানের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। বর্তমানে কয়লা আমদানী ও সরবরাহ শুরু হলে উক্ত ঘটনার জের ধরে কোন প্রকার নোটিশ/পূর্ভাবাস ছাড়াই ময়মনসিংহ জেলা মোটর মালিক ও শ্রমিক সমিতির নেতৃবৃন্দ হালুয়াঘাট টু ঢাকার সব ধরনের যান চলাচল অনির্দিষ্ট কালের জন্য বন্ধ করে দেয়। গত ২৪ এপ্রিল শুক্রবার হইতে চলমান ধর্মঘটে হালুয়াঘাটের কয়লা, কাঁচামাল ও অন্যান্ন পণ্য সরবরাহ সহ জনজীবন চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আরো জানায়,

এই ঘটনায় ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক সমিতি সংবাদ সম্মেলনে যে সমস- অসত্য, মিথ্যা, ভিত্তিহীন, অসত্য তথ্য উপস’াপন করা হয়েছে তাতে আলহাজ্ব আলী আজগর কে ব্যবসায়ীক, সামাজিক ও রাজনৈতিক ভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়েছে। আমরা তীর্ব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। তিনি আরো বলেন, এক সময় এই জাফর আলী খান অত্র শুল্ক স’লবন্দর এলাকাকে ব্যবহার করে মাদক, মসলা ও আমদানী নিষিদ্ধ পন্য চোরাচালানের ব্যবসা করতেন বলেও এলাকার লোকজনের কাছে জনশ্রতি আছে। দীর্ঘ প্রায় এক বছর যাবৎ বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি শুল্ক ষ্টেশন দিয়ে সরকার তথা অর্থ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঐকানি-ক প্রচেষ্টার ফলে ফের স’লবন্দর গুলো দিয়ে কয়লা আমদানী শুরু হলে কথিত শ্রমিক নেতা জাফর আলী স’লবন্দর গুলোতে তার চোরাচালান ও ভেজাল কয়লা বাণিজ্যের ঘাটি হিসেবে তৈরী করে বন্দরের এক হাজার আমদানীকারক, দশ হাজার শ্রমিক এমনকি সারাদেশের ইটভাটা ও ইস্পাত কারখানা গুলোকে জিম্মি করে তাহার মনোপলি ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে।

ইতোপূর্বে জাফর আলী খান ১৭ ডিসেম্বর‘১৪ গোবরাকুড়া কয়লা আমদানী রপ্তানীকারক গ্রুপের মহাসচিব আলী আজগর সহ ৮জনের বিরুদ্ধে আদালতে দ্রম্নত বিচার আইনে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এরপর ২৩ডিসেম্বর‘১৪ সে আলী আজগর ও যুগ্ম-মহাসচিব অশোক সরকার (অপু)-কে বিবাদী করে পুনরায় আদালতে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। এখানেই মামলার শেষ নয় জাফর আলীর ইশারা ও ইন্দনে এক কথিত ট্রাক চালককে দিয়ে আরো ৮ জনের বিরম্নদ্ধে আদালতে বিবাদী করে দ্রম্নত বিচার আইন আরো একটি মামলা করেন।এইভাবে জাফর আলী খান একের পর এক মামলা দায়ের করে ও অন্যকে দিয়ে মামলা করে মূলত কয়লা আমদানীী ও রপ্তানী কারক গ্রম্নপ -এর নেতৃবৃন্দকে হয়রানি ও নাজেহাল করার পাশাপাশি দুটি শুল্ক ষ্টেশন দিয়ে আমদানী রপ্তানী কার্যক্রম চিরতরে বন্ধ করে দিয়ে তার নির্বিঘ্নে তার চোরাচালান বাণিজ্য চালিয়ে রাষ্ট্রের আর্থিক ড়্গতি সাধন করার চেস্টা করছে।
তৃতীয় মামলটি ট্রাক ড্রাইভারকে দিয়ে করানোর পর উক্ত ড্রাইভারকে নিয়ে জাফর আলী খান প্রতিমন্ত্রী এ্যাড. প্রমোদ মানকিন এম.পির বাড়ি যান। প্রতিমন্ত্রী তখন ড্রাইভারকে জিজ্ঞেস করেন যে, তোমার ট্রাক আমাদের পোর্টে কে আটকে রেখেছে? ড্রাইভার বলেন- স্যার জাফর ভাই আমাকে ভয় দেখিয়ে ট্রাক ওখান থেকে আনতে নিষেধ করেছে। ট্রাক নিয়ে আসলে নাকি ৫লড়্গ টাকা জরিমানা দিতে হবে। ঐ দিন প্রতিমন্ত্রী অভয় দেওয়ার পরেও ট্রাক ড্রাইভার ট্রাকটি ডিপো এলাকা থেকে নিয়ে যায়নি। প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনায় গত ৪ জানুয়ারী কার্য-নির্বাহী কমিটির সভার সিদ্ধানত্ম মোতাবেক স’ানীয় থানা কর্তৃপড়্গকে পরিত্যাক্ত ট্রাকটি থানা হেফাজতে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয় এবং থানা কর্তৃপড়্গ ট্রাকটি থানা হেফজাতে নিয়ে যান।
এরপর গত ২৪ এপ্রিল কোন পূর্ব ঘোষনা ছাড়াই বাস, ট্রাকসহ সকল ধরনের যান বাহন হালুয়াঘাট সড়কে ধর্মঘটের আহবান করে। একজন্য ঘৃণ্য ব্যক্তির হীনসার্থ চরিতার্থ করার জন্য মালিক সমিতির এই ধরনের ধর্মঘটের বিরম্নদ্ধে হালুয়াঘাটের সর্বসত্মরের মানুষ ভীষন ভাবে বিড়্গুব্ধ। তারা ধর্মঘট করে সকল প্রকার ব্যবসায়ীদের ভীষন ড়্গতির মধ্যে ফেলেছে। জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারন করেছে। বিগত ৩১ জানুয়ারী জাফর আলী খানের আবেদন বা অনুরোধে প্রতিমন্ত্রী এ্যাড. প্রমোদ মানকিন এম.পি এক সালিশ দরবারের আহবান করেন। সালিশ দরবারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল আওয়াল, উপজেলা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাকিউর রহমান সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিগণ উপসি’ত ছিলেন, কিন’ জাফর আলী খান নিজেই সেই সালিশ দরবারে উপসি’ত হননি। সাংবাদিক সম্মেলনে আরো বলেন, জাফর আলী খান একজন চোরাকারবারী, ভাংগাড়ী ব্যবসায়ী, ভূমি দখলকারী, মামলাবাজ, চাঁদাবাজ, প্রতারক, অসৎ কারবারী হিসাবে সমাধিক পরিচিত। তার মতো একজন অমানুষকে ময়মনসিংহ জেলা মটর মালিক সমিতি ও মটর শ্রমিক ইউনিয়ন কি কারনে সহায়তা করছেন তার কারন অজ্ঞাত এবং বোধগম্য নয় বলে সচেতন জনগন মনে করে। জাফর আলী খান বিভিন্ন সময়ে প্রতিমন্ত্রী এ্যাড. প্রমোদ মানকিন এম.পির আেেদশ নির্দেশ ও আহবান উপেড়্গা করেন এবং সালিশে সাড়া না দিয়ে বেয়াদবি করেছেন। যা ড়্গমার অযোগ্য। আমরা এ ঘটনার সঠিক ও নিরপেড়্গ তদনত্ম দাবি করছি। আমরা মটর মালিক সমিতি ও মটর শ্রমিক ইউনিয়নের উত্থাপিত সকল দাবি প্রত্যাখ্যান করছি। ঘটনার নায়ক জাফর আলী খানের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করছি। সেই সাথে প্রশাসন ও সরকার এর যথাযথ কর্তৃপড়্গকে বিষয়টি সুরাহা করার জন্য পদড়্গেপ নিতে অনুরোধ জানাচ্ছি। সাংবাদিক সম্মেলনে ঐক্যবদ্ধ হালুয়াঘাট বাসীর পড়্গে হালুয়াঘাট আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রম্নপ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যড়্গ খোরশীদ আলম ভূঞাঁ, গোবরাকুড়া আমদানীকারক গ্রম্নপের মহাসচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো: আলী আজগর, কড়ইতলী কোল এন্ড কোক ইম্পোটার্স এসোসিয়েশন সভাপতি, ১নং ভুবনকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এম সুরম্নজ মিয়া, সাধারন সম্পাদক আলহাজ্ব উসমান আলী মেম্বার, হালুয়াঘাট আমদানী ও রপ্তানীকারক গ্রম্নপ এর যুগ্ন মহাসচিব ও ৪নং সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সালেহ আহমেদ, হালুয়াঘাট ব্যবসায়ী উন্নয়ন সমিতি সভাপতি নাদিম আহমেদ, ধান ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো: নুরম্নল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বাচ্চু, গোবরাকুড়া কয়লা ডিপু শ্রমিক সমবায় সমিতির সভাপতি মো: জসিম উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক মো:শহীদুল ইসলাম, আমদানী কারক সমিতির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক অসুক কুমার সরকার অপু, উপজেলা আওযামীলীগেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো: শাহ আলম, হালুয়াঘাট উপজেলা যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো: নাজিম উদ্দিন প্রমুখ উপসি’ত ছিলেন।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৬:৪৮ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২৯, ২০১৫