|

ত্রিশালে চিকিৎসকের অবহেলায় নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ, হাসপাতাল ঘেরাও

ত্রিশাল ব্যুরো অফিস
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্সে চিকিৎসকের অবহেলায় গর্ভবতী মহিলার নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় এলাকাবাসী হাসপাতাল ঘেরাও করলে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যহত হয়। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকরা দুঃখ প্রকাশ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী ঘেরাও প্রত্যাহার করেন এবং আবার চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়।
নিহতের পরিবার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানাযায়, ত্রিশাল উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের আবুল কাসেমের গর্ভবতী স্ত্রী সালমা আক্তারকে গত সোমবার দুপুরে প্রসব ব্যথার কারনে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর জরুরী বিভাগে নিয়ে আসেন তার অভিভাবকরা। হাসপাতালে আনার পর জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সিফাত তাসলিম সিফা তাকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ঔযুধ লিখে দিয়ে বিদায় করে দেন। তিনি রোগীর প্রসবের সময় হয়নি বলে ব্যবস্থাপত্র দিয়ে বাড়ী চলে যাওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় গর্ভবতী সালমার প্রসব ব্যথা ও রক্ত ক্ষরন হলেও চিকিৎসক তাকে ওযুধ সেবনের পরামর্শ দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। সালমা আক্তারকে বাড়ী নেওয়ার পরই সে একটি ছেলে সন্তান প্রসব করে। এ সময় রোগীর অবস্থার অবনতি হলে তাকে আবার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স এর জরম্নরী বিভাগে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা তাকে এবং নবজাতককে কোন চিকিৎসা না দিয়ে ময়মনসিংহ রেফার্ড করার পরার্মশ দেন। তখন রোগীকে কোন ব্যবস্থাপত্র বা চিকিৎসা দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করায় রোগীকে দ্রুত ময়মনসিংহের বেসরকারী কমিউনিটি বেজড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ভোর সাড়ে ৪ টায় সালমার নবজাতক ছেলেটির মৃত্যু হয়।
এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে শত শত এলাকাবাসী ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স ঘেরাও করে। ফলে হাসপাতালের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও আউটডোর বন্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতি খারাপ দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স এর চিকিৎসক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শফিকুল ইসলাম রোগীর লোকজনের কাছে বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং তদনেত্মর আশ্বাস দেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তদন্তের আশ্বাস দিলে এলাকাবাসী ঘেরাও প্রত্যাহার করেন এবং আবার চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়।
রোগীর স্বামীর বড় ভাই মোশারফ হোসেন জানান, আমাদের রোগীকে ভর্তি করে চিকিৎসা দিলে হয়তো এ দুর্ঘটনা নাও ঘটতে পারতো। আমরা এ ঘটনার জন্য তদন্তের দাবী জানিয়ে চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি। এলাকাবাসী হাসপাতাল ঘেরাও করলেও তারা বিচারের আশ্বাস দেওয়ায় এলাকাবাসী শান্ত হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিহুর রহমানকে বার বার মোবাইল ফোনে চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. রবিউল ইসলাম বলেন, আমি ঘটনার সময় ময়মনসিংহ অবস্থান করছিলাম। বিষয়টি সর্ম্পকে আমি জানিনা।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপেস্নক্স এর চিকিৎসক হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, গর্ভবর্তী মহিলা সাড়ে ৭ মাসের গর্ভবর্তী ছিলেন। তার প্রসব ব্যাথা উঠায় তাকে ভর্তি করা প্রয়োজন ছিল। নতুন ডাক্তার সে বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেনি। এ ব্যাপারে তদনত্ম কমিটি গঠন করা হবে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা না থাকায় আগামীকাল (আজ) বুধবার সিদ্ধান্ত হবে।

এ সম্পর্কিত আরও সংবাদ

সর্বশেষ আপডেটঃ ৮:০৬ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২৮, ২০১৫