|

গফরগাঁওয়ে ধান কাটতে গিয়ে কৃষক-শ্রমিকদের শরীরে ঝাঁকে ঝাঁকে জোঁকের আক্রমণ

আজহারুল হক, গফরগাঁও
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় রক্ত চুষা জোঁকের বিরুদ্ধে রণসাজে সেজে বোরো ধান কাটছে কৃষি শ্রমিকরা। তারপরেও জোঁকের হাত থেকে কোনভাবেই রক্ষা পাচ্ছে না। এ অবস্থায় ভয়ে শত শত একর জমির পাকা বোরো ধান ক্ষেতেই নষ্ট হতে চলছে। ধান কাটতে ক্ষেতে নামলেই ঝাঁকে ঝাঁকে জোঁক আক্রমন করে। হাতে-পায়ে ও শরীরে আক্রমন করে রক্ত চুষে নিচ্ছে কৃষক ও শ্রমিকদের। ফলে স্বাভাবিকের চেয়ে দুই গুন বেশি টাকা দিয়েও ধান কাটার জন্য শ্রমিক পাচ্ছে না কৃষকরা। মাঝে মধ্যে দুয়েকজন মিললেও প্রতি কাঠা (৭শতাংশ) জমির ধান কাটতে দেড় হাজার টাকা মজুরী হাকছে শ্রমিকরা। অথচ গত বছর প্রতি কাঠা ধান কাটতে মজুরী লেগেছে ৫’শ টাকা। এতে কৃষকরা লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় উপজেলার ডিমাইল, গোলাবাড়ী, কাজা বাঘরা, নামা লংগাইর, ফটুয়ার টেক, কাজা, ভাইগ্গ্যার টেক গ্রামে শ্রমিকরা গায়ে জিন্সের শার্ট, পেন্ট, পায়ে মোজা পড়ে ও শরীরের পুড়া মবিল মেখে, গায়ে পলিথিন জড়িয়ে এবং কোমড়ে গামছা বেধে রণসাজে সেজে বোরো পাকা ধান কাটছে কৃষি শ্রকিকরা।
কাজা গ্রামের কৃষক সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ ফারুক জানান, আমাদের এলাকায় শত শত একর জমিতে ধান পেকে রয়েছে। ধান কাটতে নামলেই ঝাঁকে ঝাঁকে জোঁক এসে আক্রমন করছে। ফলে জোঁকের ভয়ে ধান কাটতে পারছে না শ্রমিকরা। নামা লংগাইর গ্রামের কৃষক ক্বারী রুহুল আমিন বলেন, ক্ষেতে নামলেই বিল বিল করে ঝাঁক বেঁধে জোঁক এসে কৃষকের হাতে ও পায়ে ধরে। রক্ত চুষে তারপর ছেড়ে দেয়। এতে গোলাবাড়ী গ্রামের ইসমাইল হোসেন বলেন, বৃষ্টির পানিতে পাকা ধান প্রায় ডুবে যাচ্ছে। কিন’ শ্রমিকরা জোঁকের ভয়ে ধান কাটতে পারছে না। কৃষি শ্রমিকরা গায়ে পোড়া মবিল, পলিথিন ও জিন্সের শার্ট-প্যান্ট পড়ে ধান কাটতে নেমেও জোঁকের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না। তাদেরকে কাঠা প্রতি দেড় হাজার টাকা দিতে হয়। এক কাঠা জমিতে ধান হয় ১২ থেকে ১৪শ’ টাকার । কাটতেই যদি এত টাকা লাগে তবে কেটে লাভ কি। জোঁকের কারণে কৃষক এখন দিশেহারা। কাজা গ্রামের মাহাবুব হোসেন ঢালী ও আহাদ মিয়া বলেন, জোঁকের ভয়ে গরু-ছাগলও মাঠে যেতে পারছে না। একেকটা গরু-ছাগলকে জোঁকে ধরে রক্ত চুষে নেওয়ার ভয়ে কৃষক তাদের পশুদের মাঠে নেয় না। স’ানীয় ইউপি সদস্য মোঃ খোকা মিয়া বলেন, আমার এলাকায় জোঁকের জন্য কৃষক মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন । কৃষকদের রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে পানিতে প্রচুর পরিমানে কীটনাশক দেয়া যাবেনা। তাই গায়ে পলিথিন বেধে, সারা শরীরে মবিল মেখে, জিন্সের পেন্ট শার্ট ও প্লাষ্টিকের মোজা পড়ে ধান কাটতে শ্রমিকদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস’্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (টিএইচএ) ডাঃ ওয়ায়েজ উদ্দীন ফরাজি বলেন, শরীরে জোঁক ধরার সাথে সাথে লবন পানি ব্যবহার করতে হবে। তাহলে জোঁক ছেড়ে দিয়ে পড়ে যাবে।

সর্বশেষ আপডেটঃ ৫:২৪ অপরাহ্ণ | এপ্রিল ২৬, ২০১৫